ভারতের বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর বর্ষীয়ান নেতা নীতীশ কুমার এক নারী চিকিৎসকের হিজাব টেনে নামিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) একটি সরকারি অনুষ্ঠানে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
বিহার সরকারের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত ‘আয়ুষ’ (AYUSH) চিকিৎসকদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে হিজাব পরিহিত এক নারী চিকিৎসক যখন মঞ্চে নিজের নিয়োগপত্র নিতে আসেন, তখন ৭৫ বছর বয়সী মুখ্যমন্ত্রী হঠাৎ করে তার হিজাব টেনে নিচে নামিয়ে দেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ওই নারী চিকিৎসক অত্যন্ত বিব্রত বোধ করছেন। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে থামানোর চেষ্টা করতে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এমন আচরণের সময় পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মুখ্যসচিব দীপক কুমার এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডেকে হাসতে দেখা গেছে, যা নিয়ে জনমনে আরও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদের কড়া সমালোচনা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নীতীশ কুমারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে ভারতের বিরোধী দলগুলো। তাদের বক্তব্য:
- মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্ন: বিরোধীদের অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে ‘মানসিকভাবে অস্থির’ বলে অভিহিত করেছেন।
- নারীর অবমাননা: প্রকাশ্য দিবালোকে একজন নারী চিকিৎসকের পোশাকে হাত দেওয়াকে ‘মর্যাদাহানি’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী শিবির।
- আয়ুষ মন্ত্রণালয় নিয়ে বিতর্ক: বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি (আয়ুর্বেদ, ইয়োগা, ইউনানি, সিদ্ধা ও হোমিওপ্যাথি) বা ‘আয়ুষ’ ক্যাডারের চিকিৎসকদের সম্মান দেওয়ার পরিবর্তে এমন আচরণে হতাশ সংশ্লিষ্টরা।
নীতীশ কুমারের বিতর্কিত অতীত
এটিই প্রথম নয়; এর আগেও বিধানসভায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল নীতীশ কুমারকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।
এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বা তার দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক দুঃখপ্রকাশ বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।









