নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩ রা মে , ২০২৬
বাংলাদেশ পুলিশে সরাসরি ৪ হাজার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিয়োগের লক্ষ্যে ১৯৪৩ সালের ‘পিআরবি’ বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে বাহিনীর অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের যুক্তি, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা—এই দুই মেরুর অবস্থানে তৈরি হয়েছে এক অস্থিরতা।
প্রশাসনের যুক্তি: ‘স্মার্ট পুলিশিং’
পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, সাইবার অপরাধ ও আধুনিক অপরাধ দমনে উচ্চশিক্ষিত ও প্রযুক্তি-দক্ষ তরুণদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। তদন্তের মানোন্নয়ন ও স্মার্ট পুলিশিং নিশ্চিত করতে সরাসরি নিয়োগের অনুপাত বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা।
মাঠপর্যায়ের উদ্বেগ: ক্যারিয়ারে স্থবিরতা
বর্তমানে এসআই পদের ৫০% সরাসরি নিয়োগ এবং ৫০% বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হয়। সংশোধনীতে সরাসরি নিয়োগের পাল্লা ভারী করলে কনস্টেবল থেকে এএসআই পর্যন্ত প্রায় ১.৬০ লক্ষ সদস্যের পদোন্নতির পথ সংকুচিত হবে। মাঠপর্যায়ের সদস্যদের দাবি:
- ১৫-২০ বছরের অভিজ্ঞতার স্বীকৃতির অবমূল্যায়ন হবে।
- বাহিনীতে দীর্ঘস্থায়ী ‘ক্যারিয়ার ব্লক’ বা পদজট তৈরি হবে।
- আকস্মিক এই পরিবর্তনে অভ্যন্তরীণ মনোবল ও কর্মস্পৃহা কমতে পারে।
সমাধানের পথ: ভারসাম্য ও প্রশিক্ষণ
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি মেধাবী নিয়োগ যেমন প্রয়োজন, তেমনি মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ সদস্যদের অবহেলা করা ঠিক হবে না। সংকট নিরসনে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
- সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির মধ্যে সুষম সমন্বয় (Balanced Approach) রাখা।
- পদোন্নতি প্রত্যাশীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
সারকথা: একটি পেশাদার বাহিনী গড়তে আধুনিকায়নের পাশাপাশি সদস্যদের ন্যায্য পাওনা ও মানসিক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।








