
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৫ মার্চ, ২০২৬
২০০৭-২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে। সম্প্রতি তৎকালীন সময়ের কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অমানবিক নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে বিভিন্ন সূত্রে।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার আপন ছোট ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের ভায়রা (ছোট শালীর স্বামী) তৎকালীন মেজর মাসুদই ছিলেন তারেক রহমানের ওপর চালানো অমানুষিক নির্যাতনের মূল কারিগর। অভিযোগ রয়েছে, ২০০৭ সালের সেই উত্তাল সময়ে তারেক রহমানের মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে দেওয়ার পেছনে সরাসরি ভূমিকা ছিল এই সেনা কর্মকর্তার।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রিমান্ডের নামে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো হয়েছিল। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, সেখানে দায়িত্বরত জুনিয়র অফিসাররা পর্যন্ত তা সহ্য করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন।
এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তারেক রহমানকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার এবং পরবর্তীতে সেটিকে 'অসুখজনিত মৃত্যু' হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জুনিয়র অফিসারদের অসহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকার তারেক রহমানকে লন্ডন এবং আরাফাত রহমান কোকোকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একইসাথে বেগম জিয়াকেও দেশ ছাড়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হয়। তবে তিনি অকুতোভয় কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, "আমাকে মেরে ফেলো, তবুও আমি দেশ ছেড়ে যাব না।" তার এই অনড় অবস্থানের কারণে তাকে দেশেই নজরবন্দি করে রাখা হয়েছিল।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করার পর সাঈদ ইস্কান্দারের বিশেষ সুপারিশে এই মাসুদকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়েছিলেন বেগম জিয়া। অথচ ক্ষমতার পালাবদলে সেই মাসুদই হয়ে ওঠেন জিয়া পরিবারের প্রধান শত্রূ।
অবসর নেওয়ার পর এই বিতর্কিত কর্মকর্তা জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ মাহবুব উদ্দিন
মিরপুর , ঢাকা - ১২১৬
Contact us: edit@timelinenews24.com
Office: ০১৮৪০৩১৫৫৫৫
Copyright © 2026 Timeline News24. All rights reserved.