
– মতামত -এফ. জামান তাপস ,
চলচ্চিত্র, টিভি মিডিয়া নির্মাতা ।
নদীর পানি দূষিত হলে মাছ যেমন টিকে থাকতে পারে না, তেমনি সমাজ দূষিত হলে মানুষের ভেতর থেকে মনুষ্যত্ব হারিয়ে যায়। আজ আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র যেন সেই চরম অবক্ষয়ের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া শিশু রামিসার ঘটনা আমাদের বিবেককে আবারও এক মহাপ্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
রামিসার হত্যাকারীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যা গোটা জাতি আজীবন স্মরণ রাখবে। এই শাস্তি যেন একটি কঠোর বার্তা দেয়, যাতে আর কোনো বাবা-মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়, আর কোনো সন্তানকে যেন অকালে প্রাণ হারাতে না হয়।
এখানে একটি বিষয়ে আমাদের সবার সচেতন হওয়া জরুরি। গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন রামিসার ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে, তখন পাশেই খুনি বা অপরাধীর ছবি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, নিষ্পাপ রামিসার ছবির পাশে ওই নরপশুদের ছবি দেওয়া রামিসার স্মৃতির প্রতি এক ধরনের অমর্যাদা। তাই সংশ্লিষ্ট সবার কাছে অনুরোধ—হয় শুধু রামিসার ছবি ব্যবহার করুন, না হলে অপরাধীর ছবি দিয়ে উপযুক্ত ক্যাপশন লিখে পোস্ট দিন। ভুক্তভোগীর পবিত্র স্মৃতির যেন অবমাননা না হয়।
রাষ্ট্রের কাছে আজ আমাদের সনির্বন্ধ আকুতি:
আমাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা বা চিকিৎসার চেয়েও আজ বেশি প্রয়োজন জীবন ও সম্মানের নিরাপত্তা। আগে আমাদের শিশু ও নারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আমরা আর কোনো ফাঁকা আশ্বাস চাই না, আমরা প্রকৃত বিচার চাই।
অপরাধীর বিচার যেন এমন দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর হয়, যা দেখে কোনো অপরাধী কোনো শিশু বা নারীর দিকে অমানুষিক দৃষ্টিতে তাকাতেও একশ বার ভাবতে বাধ্য হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বছরের পর বছর এই দাবি তোলার পরও কেন ধর্ষক ও খুনিদের বিরুদ্ধে সেই স্তরের কঠিন ও দ্রুততম আইন তৈরি বা বাস্তবায়ন হচ্ছে না?
এই নির্মম বাস্তবতার উত্তর কি রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের কাছে আছে? আজ সময় এসেছে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার।









