
বগুড়া-সিরাগঞ্জ সীমান্ত
প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬
বগুড়ার শেরপুর এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী রাণীরহাট বাজারে মেলার নামে টিকিট কেটে অশ্লীল নৃত্যের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনব্যাপী এই মেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে প্যান্ডেল নির্মাণ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এবং সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মেলা উপলক্ষে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের অংশে কয়েকটি এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের অংশে একটি বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব প্যান্ডেলে টিকিটের বিনিময়ে আপত্তিকর ও অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য:
“রাণীরহাট বাজার একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এখানে একটি সুনামধন্য মাদ্রাসা ও মসজিদ রয়েছে। এমন ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশের ঠিক পাশেই অশ্লীলতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মেলার নামে এই ধরনের নোংরামি আমাদের স্থানীয় সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”
যুবসমাজ ধ্বংস ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা জানান, মেলার আড়ালে জুয়া, অশ্লীল নৃত্য ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হলে তরুণ সমাজ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে কিশোর ও যুবসমাজ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
৫ দপ্তরে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি
মেলার নামে এই অনৈতিক আয়োজন বন্ধ করতে এলাকাবাসী দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা ইতিমধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের শীর্ষ ৫টি দপ্তরে দাবি জানিয়েছেন:
- রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার
- বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি)
- সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি)
- শেরপুর উপজেলা প্রশাসন
- তাড়াশ উপজেলা প্রশাসন
এলাকাবাসীর স্পষ্ট ভাষ্য, মেলার নামে কোনো ধরনের অশালীন, অনৈতিক কিংবা সমাজবিরোধী কার্যক্রম কোনোভাবেই চলতে দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অপসংস্কৃতির আয়োজন বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
ঐতিহ্যবাহী রাণীরহাট মেলার সুষ্ঠু, সুন্দর ও পারিবারিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন দ্রুত মাঠে নামবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সাধারণ মানুষের









