বিনোদন ডেস্ক | ঢাকা বলিউডে চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার নজির অনেক থাকলেও, ইয়ামি গৌতমের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গত বছর মুক্তি পাওয়া সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘হক’-এর প্রধান চরিত্র ‘শাজিয়া বানো’ হয়ে ওঠার জন্য ইয়ামি টানা চার মাস সময় নিয়ে নিয়মিত কুরআন পাঠ করেছেন এবং এর সঠিক উচ্চারণ শিখেছেন।
গবেষণায় দেড় বছর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছবির পরিচালক সুপর্ণ ভার্মা জানিয়েছেন, ইসলাম সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত নানা ভুল ধারণা দূর করাই ছিল এই সিনেমার মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “আমরা প্রায় দেড় বছর ইসলামি আইন নিয়ে নিবিড় গবেষণা করেছি। তিন তালাক বা ‘মোহর’-এর মতো বিষয়গুলো যে প্রকৃতপক্ষে নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্য, সেই সত্যটাই আমরা পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছি।”
বাস্তব ঘটনা ও আইনি লড়াই সিনেমাটি সত্তরের দশকের এক নারীর সাহসিকতাপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের গল্প বলে, যা পরবর্তীতে ভারতের জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কের রূপ নেয়। সাজিয়া বানো চরিত্রটিকে পর্দায় জীবন্ত করতে ইয়ামি যে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তা এখন চলচ্চিত্র পাড়ায় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
শিল্পীর নিষ্ঠা ও সামাজিক বার্তা একজন শিল্পী যখন তার চরিত্রকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে এতটা গভীরে যান, তখন সেই কাজ কেবল বিনোদন নয়, বরং সার্থকতা পায়। ইসলাম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করার এই সাহসী উদ্যোগ এবং ইয়ামির এই প্রচেষ্টাকে সিনেমা বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।