
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা: রাজধানীর দারুস সালাম থানার সামনে অবস্থিত দোকানপাটে গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত চুরির ঘটনা ঘটছে। থানা থেকে মাত্র ৪০-৫০ গজ দূরত্বের মধ্যে একের পর এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
চুরির ঘটনার পরম্পরা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের ২৫শে আগস্ট ২০২৫ তারিখে ২০নং বর্ধন বাড়ি স্থিত ডেন্টিহোপ ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল কেয়ার, ঐশ্বর্য বিউটি পার্লার এবং ২১নং বর্ধন বাড়ি স্থিত হাংরি হুইলস চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে।
চুরির এই ধারা অব্যাহত থাকে চলতি বছরেও। গত ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৩৯/২ বর্ধন বাড়ি স্থিত একটি মোবাইল ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়। দোকান মালিকের দাবি, চোরেরা নগদ প্রায় ২ লক্ষ টাকা, ফ্লেক্সিলোডের বেশ কয়েকটি মোবাইল এবং ৫০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়। একই রাতে পাশের ৩৯/১ বর্ধন বাড়ির নিচতলার একটি অফিস ও গোডাউন এবং দোতলায় অবস্থিত জি স্মার্ট সেলুন নামে একটি দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটে। এর কিছুদিন আগেই পার্শ্ববর্তী ইরিনা মেডিসিন নামক একটি ওষুধের দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটেছিল।
সর্বশেষ ঘটনা ও জনমনে ক্ষোভ
সবশেষ গত রাতে আবারো ৩৯/২ বর্ধন বাড়ির সেই বিকাশের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এবারও প্রায় এক লক্ষ টাকার মালামাল খোয়া গেছে। একই সাথে পাশের একটি টেইলার্সেও হানা দেয় চোরচক্র।
থানার এত কাছাকাছি এলাকায় বারবার চুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
”থানা থেকে মাত্র ৪০-৫০ গজ দূরে এভাবে নিয়মিত চুরি করার সাহস চোররা পায় কোত্থেকে? এটা সরাসরি প্রশাসনিক গাফিলতি। আমরা এখন জান-মালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।”
স্থানীয়দের সন্দেহ
এলাকাবাসীর ধারণা, স্থানীয় নাইট গার্ড অথবা অন্য কোনো মহলের যোগসাজশ ছাড়া এত সুরক্ষিত এলাকায় বারবার চুরি হওয়া সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পুলিশের টহল জোরদার না থাকায় এবং পূর্বের চুরির ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় চোরচক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
প্রতিকার চায় এলাকাবাসী
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী সমাজ এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে দারুস সালাম থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা অবিলম্বে নৈশকালীন নিরাপত্তা বৃদ্ধি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেজন্য দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা









