
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক : দিদারুল আলম শিকদার
টেকনাফ উখিয়া-টেকনাফ থেকে নির্বাচিত দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে এক সময় গণমাধ্যম ও জনমুখে ‘মাদকের গডফাদার’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। তাঁর নাম আসত ইয়াবা বিরোধী অভিযানের তালিকার শীর্ষে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বদি এখন রাজনীতি বা ক্ষমতার মূল স্রোতে আগের মতো সক্রিয় নেই, অথচ মাদকের কারবার কি থেমেছে? যদি বদিই প্রধান হোতা হতেন, তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মাদকের জোয়ার কেন কমছে না?
বানোয়াট গল্পের নেপথ্যে কি তবে রাজনীতি?
সচেতন মহলের মতে, গত কয়েক দশকে আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী এমন সব গল্প সাজানো হয়েছিল যার অনেকগুলোরই কোনো শক্ত ভিত্তি বা আইনি প্রমাণ মেলেনি। জনমনে এখন এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যে, তবে কি বদিকে ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে আসল গডফাদারদের আড়াল করা হয়েছিল? যদি তাঁকে ঘিরেই সমস্ত সিন্ডিকেট আবর্তিত হতো, তবে বর্তমান সময়ে মাদক চোরাচালানের ভয়াবহতা কেন আগের চেয়েও বৃদ্ধি পেয়েছে?
চলমান চালানের চিত্র ও বাস্তবতা
সরকারের বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও র্যাব) নিয়মিত অভিযানে প্রায় প্রতিদিনই টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও আইস (ক্রিস্টাল মেথ) জব্দ করা হচ্ছে। দৈনিক সংবাদপত্রের পাতা উল্টালেই দেখা যায় বড় বড় চালানের খবর।
প্রশ্ন উঠছে:
- এই বিশাল চালানের পুঁজি যোগান দিচ্ছে কারা?
- বদি নেই, তবে সিন্ডিকেটের নতুন নিয়ন্ত্রক কারা?
- মাদক কারবারের রুটগুলো কেন এখনো অরক্ষিত?
আসল গডফাদারদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি
প্রজন্মের শিক্ষিত জনতা এবং স্থানীয় অধিবাসীরা এখন মনে করছেন, হয়তো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আবদুর রহমান বদির মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হয়েছিল। এখন সময় এসেছে প্রকৃত অপরাধীদের চেনার। জনসম্মুখে প্রশ্ন উঠেছে—যাঁরা পর্দার আড়ালে থেকে প্রশাসন বা প্রভাবশালীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে (কিংবা হাত মিলিয়ে) এই বিষাক্ত কারবার চালিয়ে যাচ্ছে, কেন তাদের নাম তালিকায় আসছে না?
জনতার প্রত্যাশা
টেকনাফের বর্তমান মাদক পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রমাণ করে যে, গডফাদারদের শিকড় অনেক গভীরে। কেবল নির্দিষ্ট একজনের নামে অপপ্রচার চালিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। বর্তমান প্রজন্মের দাবি, প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে সেই “আসল গডফাদারদের” তালিকা প্রকাশ করা হোক যারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে সমাজকে ধ্বংস করছে।
উপসংহার: আবদুর রহমান বদিকে নিয়ে অতীতে যা-ই রটানো হোক না কেন, বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি বলছে মাদকের সাম্রাজ্যে নতুন বা ছদ্মবেশী নায়কদের রাজত্ব চলছে। রাষ্ট্র ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সাধারণ মানুষের জোরালো দাবি—অন্ধকারে থাকা সেই রাঘববোয়ালদের মুখোশ উন্মোচন করে জনসমক্ষে আনা হোক।









