১ এপ্রিল, ২০২৬
সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে পুনরায় হকার বসানোর দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে প্রশাসনকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম নামে স্থানীয় এক পৌর বিএনপি নেতা। তার এমন বক্তব্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মহাসড়কে যান চলাচল নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ফেসবুক পোস্টে আন্দোলনের ডাক
সম্প্রতি জাহাঙ্গীর আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, হকারদের উচ্ছেদ নয়, বরং পুনরায় তাদের বসিয়ে মহাসড়ক দখলের লক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে এই উচ্ছেদ ঠেকাতে চ্যালেঞ্জ প্রদান করেন। তার এই পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
পোস্টে তিনি নিজ দলের কিছু নেতার সমালোচনা করে লেখেন:
”সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করেই অনেক নেতা নিজেদের অবস্থান শক্ত করেন, অথচ প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ান না।”
২ এপ্রিল মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা
জাহাঙ্গীর আলম আগামী ২ এপ্রিল ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। তিনি প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সাহস থাকলে এই আন্দোলন প্রতিহত করে দেখাক। একজন রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে মহাসড়ক দখলের মতো বেআইনি কাজের প্রকাশ্য ঘোষণায় হতবাক স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি
এই হুমকির প্রেক্ষিতে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান:
- মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না।
- জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
- ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
নেপথ্যে কি চাঁদাবাজির স্বার্থ?
পৌর বিএনপি নেতার এমন বিতর্কিত অবস্থানের পর স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন উঠেছে—মহাসড়ক দখল ও হকার বসানোর আড়ালে কি বিশাল কোনো চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট কাজ করছে? অনেকে ধারণা করছেন, নিজের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়েই তিনি প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন।
সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
এদিকে জাহাঙ্গীর আলমের এই বক্তব্যে বিব্রত স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরাও। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার দায়ে এবং জনবিরোধী কর্মকাণ্ডে উস্কানি দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ জনগণ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভার বাসস্ট্যান্ডসহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।









