নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিয়াকৈর
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বনবিভাগের জমি দখল করে বিএনপি কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গাছবাড়ি গ্রামে বনবিভাগের সোনাতলা ফরেস্ট বিটের জমিতে এই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র এই কাজ সম্পন্ন করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাছবাড়ি গ্রামের চান মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রায় ৩ শতাংশ বনভূমি অবৈধভাবে কেনেন ছামান মিয়া ও আবদুল আলীম নামে দুই ব্যক্তি। বনের জমি কেনাবেচা আইনত দণ্ডনীয় হলেও তারা সেখানে পাকা বা আধাপাকা স্থাপনা তুলে বিএনপির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
দলবদল ও কৌশলী দখল
এলাকাবাসী জানায়, অভিযুক্ত ছামান মিয়া ও আবদুল আলীম আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিগত আওয়ামী শাসনামলে তারা বনবিভাগের জমির গাছ কাটার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের ঘর ও ব্যবসা রক্ষায় তারা কৌশলে বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করছেন। স্থানীয়দের মতে, “স্থাপনাটি যেন উচ্ছেদ করা না হয়, সেজন্যই রাতারাতি বিএনপির কার্যালয়ের রূপ দেওয়া হয়েছে।”
প্রশাসনের নিরবতা
বিষয়টি নিয়ে সোনাতলা ফরেস্ট অফিসার মহিদ উদ্দিনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বনবিভাগের জমিতে অবৈধ দখলদারিত্ব চললেও প্রশাসনের এমন নিরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জনমনে অসন্তোষ
বনভূমি রক্ষা না করে সেখানে রাজনৈতিক কার্যালয় নির্মাণ করায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি:
- অবিলম্বের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।
- সরকারি জমি কেনাবেচার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
- বনের জমি রক্ষায় বনবিভাগের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।








