
এস.এ.এম সুমন :
ঢাকা শহরের মাটির গঠন শত শত বছরের পুরনো হওয়ায় রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে ভূমিকম্প প্রতিরোধে সক্ষম বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিনের সেডিমেন্ট জমে শক্ত মাটিতে পরিণত হওয়া এসব অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কম হতে পারে।
রাজধানীর রমনা, পল্টন, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, কোতয়ালি, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, শের-ই বাংলা নগর, মিরপুর, ক্যান্টনমেন্ট, পল্লবী, শাহ আলী, লালবাগ, গেন্ডারিয়া, গুলশান ও তেজগাঁওসহ বহু থানা এলাকাকে তুলনামূলক নিরাপদ ধরা হয় মাটির গঠনের কারণে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, পুরান ঢাকার মাটি শক্ত হলেও সেখানে ভিন্ন ধরনের ঝুঁকি বিরাজ করছে। এলাকার বহু ভবনই অত্যন্ত পুরোনো ও দুর্বল কাঠামোর হওয়ায় বড় ধরনের কম্পনে সেগুলো ধসে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
সর্বোচ্চ ঝুঁকির ১৫ এলাকা
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর এমন ১৫টি এলাকা রয়েছে যেখানে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকা হলো,
সবুজবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী, উত্তরা, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, মানিকদী, মোহাম্মদপুর, পল্লবী, খিলগাঁও ও বাড্ডা।
রাজধানীর কাছে সক্রিয় ফল্টলাইন
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবীর জানান, ঢাকা শহরের ভেতরে ৮–৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটার মতো বড় কোনো ফল্টলাইন নেই। তবে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরের মধুপুর অঞ্চলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির মতো অত্যন্ত সক্রিয় ফল্টলাইন রয়েছে, যা ঢাকার জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
ভরাট করা এলাকায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা
তিনি আরও জানান, মধুপুর ফল্টে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে ঢাকার নতুন ভরাট করা অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এসব এলাকায় ভূমিধস, মাটি তরলীকরণ (liquefaction) এবং ভবন ধসের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এর ফলে হতাহতের সংখ্যা পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং শহরের ভূপ্রকৃতিই বদলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার মাটি ও স্থাপনার প্রকৃতি বিবেচনায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের ভূমিকম্পে রাজধানী ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে। তাই ভবন নির্মাণে মান নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রস্তুত এবং দ্রুত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা।









